আ-শক্তি
- 16 May, 26
- 03:00 PM - 05:30 PM
- Academy of Fine Arts: Kolkata

শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে এই নাটক কেবল একজন কবির জীবনকথা নয়; এটি এক যুগের অন্তরযাত্রা, এক আত্মার অনুসন্ধান, এক সংগ্রামী নিঃসঙ্গতার নাট্যদর্শন। এখানে মূল চরিত্র শুধু শক্তি নন—এখানে চরিত্র হয়ে ওঠে সময়, কবিতা, বন্ধুত্ব, আড্ডা, পথ, নদী, বন, বেদনা এবং প্রত্যাবর্তন।
- শক্তি ছিলেন বাংলা কবিতার এমন এক আলোকস্তম্ভ, যিনি কোনো প্রতিষ্ঠানের কবি নন, কোনো মতবাদ বা আন্দোলনের মুখপাত্র নন। তিনি ছিলেন সরাসরি জীবনের কবি—খুব সহজ, খুব প্রগাঢ়, খুব মানবিক। তাঁর কবিতা ছিল এক অদৃশ্য নদীর মতো—যেখানে শব্দের উপরে ভেসে থাকে বেদনা, নিঃশব্দতা, আলো, অন্ধকার ও গভীর মানবিকতা।
- যে মানুষটি প্রকাশ্যে ছিলেন উদাসীন, নিরাসক্ত, অনিয়ন্ত্রিত—তার ভেতরেই বয়ে যাচ্ছিল তীব্রতম উপলব্ধি।
এই নাটকে চেষ্টা করা হয়েছে শক্তিকে ব্যাখ্যা না করে তাকে অনুভব করতে – কলকাতা ও বহড়ুর হাত ধরে ।
- উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন এই নাট্য। নাটকটি জীবনীর পুনরাবৃত্তি নয়—এটি তাঁর জীবনবোধের পুনর্নির্মাণ। তাঁর কবিতার ভাষা, তাঁর নীরবতা, তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক আবহ, যা মানুষের মনের গভীরে অনুরণন তোলে।
নাটকে আমরা দেখেছি কবির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ শক্তিকে—যিনি কখনো প্রশ্ন, কখনো উত্তরহীন, কখনো আত্মবিস্মৃত অথচ আশ্চর্যভাবে আলোকিত। তাঁর কবিতার মতোই তাঁর চরিত্র—সরল অথচ দুর্বোধ্য, নিভৃত অথচ ভীষণ স্পষ্ট।
- আজকের ভাঙাচোরা পৃথিবীতে ফিরে তাকালে আমরা দেখতে পাই—শক্তির ফেরা কোনো গ্রামে নয়, কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানায় নয়; তাঁর ফেরা আসলে মানুষের দিকে, আত্মার দিকে, অস্তিত্বের দিকে।
- “আমি ফিরে যাবো…”—এই উচ্চারণ তাই কেবল কোনো স্মৃতি বা লোকালয়ে নয়; তা আসলে এক চিরন্তন মানবিকতার আহ্বান।
এই নাটকের মঞ্চ, দৃশ্য, সুর এবং নীরবতায় নির্দেশক সেই প্রত্যাবর্তনকে দৃশ্যমান করার চেষ্টা করেছেন ।এখানে সংলাপের মতোই গুরুত্বপূর্ণ নীরবতা। এখানে আলোর মতোই গুরুত্বপূর্ণ ছায়া। আমাদের নির্দেশক দেবাশিস রায় গভীর মগ্নতায় এই আলো ছায়া আর কবির জীবনকে সৃজন করেছেন তাঁর নিবিষ্ট দক্ষতায়। এবং সম্পাদনা করেছেন এই নাট্য সময়ের অনুসারী হয়ে।
- শেষে, গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই তাঁদের, যারা শক্তিকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন; তাঁর কবিতার পাঠক, শ্রোতা, আধুনিক মননের তরুণ মানস—এবং সকল সেই মানুষদের, যারা বিশ্বাস করেন—
আর কৃতজ্ঞতা দেবশঙ্কর হালদার মঞ্চের নিভৃত প্রাণের দেবতা হয়ে আশ্চর্য ম্যাজিক দেখালেন …যেন শক্তি ভর করলো তাঁর ওপর! পার্থ ভৌমিক সাংসদ, কিন্তু অভিনয় তাঁর মননে , কলকাতা চরিত্রে তাঁর অভিনয়ের অভিঘাত আমাদের মুগ্ধ করে -আর পাশাপাশি পূর্ব পশ্চিম দলের অভিনেতা ও দেবাশিসের ছাত্ররা এই নাট্যের কলস ভরিয়ে আপ্লুত করেছেন।
- একজন কবির জীবন নিখুঁত নয়, কিন্তু অনিবার্য। আমাদের আ – শক্তিও তাই …আপনাদের দরজায় অবনীকে সঙ্গে নিয়ে কড়া নাড়ছে!
Venue: Academy of Fine Arts
-
Premium @ ₹700
Stock:: 103 seats
-
Gold @ ₹500
Stock:: 172 seats
-
Silver @ ₹300
Stock:: 84 seats
Premium₹700
Gold₹500
Silver₹300
