অশ্রুত তর্পণ
- 26 Jul, 26
- 06:30 PM - 08:30 PM
- Uttam Mancha: KOLKATA
মহাভারতের নারী চরিত্রদের কেন্দ্র করে নির্মিত ‘ভবানীপুর শিশিক্ষু’র প্রযোজনায় ‘অশ্রুত তর্পণ’ আসলে এক গভীর রাজনৈতিক ভাষ্য— যেখানে ক্ষমতা, রাষ্ট্রনীতি ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে উচ্চারিত হয়েছে নারীর নীরব প্রতিবাদ।
গান্ধারী— মহাভারতের এক অনন্য ট্র্যাজিক চরিত্র। স্বামীর অন্ধত্বকে নিজের নিয়তি হিসেবে গ্রহণ করে তিনি চোখ বেঁধেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেই অন্ধকার শেষ পর্যন্ত গ্রাস করেছিল সমগ্র কুরুসমাজকে। শতপুত্রের জননী হয়েও তিনি শেষ পর্যন্ত শুধু ধ্বংসের সাক্ষী। ক্ষমতার রাজনীতি মাতৃত্বকেও কী নির্মমভাবে পরাজিত করে, গান্ধারী তারই প্রতীক। কী অনায়াস দক্ষতায় দিদি শ্রীমতী বিজয়লক্ষ্মী বর্মন এই জটিল দৃপ্ত চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুললেন। আমরা সত্যি আপ্লুত।
কুন্তী— এক জটিল, দ্বন্দ্বময় নারীচরিত্র। কৈশোরে মাতৃত্ব, সন্তান বিসর্জনের অপরাধবোধ, রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার দায়— সব মিলিয়ে তাঁর জীবন এক অন্তহীন আত্মদহন। কর্ণকে অস্বীকার করার বেদনা তাঁকে আজীবন তাড়িয়ে বেড়ায়। মাতৃত্ব এখানে এক গভীর রাজনৈতিক ট্র্যাজেডি।
দ্রৌপদী— শুধু অপমানিত নারী নন, তিনি প্রশ্নের আগুন। সভামধ্যে তাঁর বস্ত্রহরণের দৃশ্য কেবল ব্যক্তিগত লাঞ্ছনা নয়, সমগ্র নারীসমাজের অসম্মানের প্রতীক। পাঁচ স্বামীর সংসারেও তিনি নিরাপদ নন; কারণ পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার খেলায় নারী কখনও মানুষ নয়, বরং সম্পত্তি। দ্রৌপদীর ক্রোধ ও দহন আসলে আত্মমর্যাদার আর্তনাদ।
গঙ্গা— সৃষ্টি ও বিসর্জনের চিরন্তন প্রতীক। মাতৃত্বের গভীরতম বেদনা বহন করেও তাঁকে ইতিহাস মনে রেখেছে শুধু এক রহস্যময়ী নারী হিসেবে।
সত্যবতী— রাজবংশ ও সিংহাসন রক্ষার রাজনীতিতে যিনি ক্রমশ হারিয়ে ফেলেছেন নিজের ব্যক্তিসত্ত্বা।
হিড়িম্বা— অরণ্যের স্বাধীন নারী, যাঁর প্রেম সভ্যতার চোখে কখনও পূর্ণ স্বীকৃতি পায়নি।
আর ভানুমতী— যুদ্ধ ও পুরুষ অহংকারের বলিপ্রদত্ত এক নারী, যার কান্নার ইতিহাস কেউ লেখেনি।
এই নাটক দেখায়— যুগ বদলায়, ক্ষমতার মুখ বদলায়, কিন্তু নারী স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করার রাজনীতি আজও একইভাবে সক্রিয়।
কিন্তু এই নিপীড়ন থেকে মুক্তি কোথায়?
কোথায় সেই মানবিক সমাজ, যেখানে নারী আর ক্ষমতার দাবার ঘুঁটি নয়, পূর্ণ মানুষ হিসেবে স্বীকৃত?
‘অশ্রুত তর্পণ’ তাই শুধু পৌরাণিক আখ্যান নয়; এটি মানবসমাজের অন্ধকারকে প্রশ্ন করার এক তীব্র নাট্যভাষা, যা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
নাটকের উপসংহারে ধ্বনিত হয় রবীন্দ্রনাথের সেই অমোঘ নির্ঘোষ—
“হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী, নিত্য নিঠুর দ্বন্দ্ব;
ঘোর কুটিল পন্থ তার, লোভজটিল বন্ধ ॥
নূতন তব জনম লাগি কাতর যত প্রাণী,
কর ত্রাণ মহাপ্রাণ, আনো অমৃতবাণী।”
এভাবেই রবীন্দ্রনাথের বাণী আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যায়
Venue: Uttam Mancha
-
Premium @ ₹500
Stock:: 10 seats
-
Gold @ ₹300
Stock:: 12 seats
-
General @ ₹200
Stock:: 10 seats
