ক্যালিগুলা
- 30 Oct, 26
- 06:30 PM - 08:30 PM
- Madhusudan Mancha: Kolkata
- যদি তিনি আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতেন, তবে আজ তাঁর বয়স একশো ছুঁত। কিন্তু তিনি কার বাপের চাকর যে ছেচল্লিশের বেশী বাঁচবেন! বাঁচেনওনি। ৪ই জানুয়ারি, ১৯৬০। লুমারি থেকে প্যারিসে আসার পথে তীব্র গতির গাড়ি ছিটকে পরে রাস্তা থেকে আছাড় খায় পর পর দুটো গাছে।
- ৪৬ বছর ১ মাস ২৮ দিনে শেষ হয়ে আলব্যের কামুর জীবন। ততদিনে লিখে ফেলেছেন আউটসাইডার, প্লেগ, ফল এর মতো উপন্যাস, ক্যালিগুলার মতো নাটক, মিথ অফ সিসিফাস আর রেবেল এর মতো দার্শনিক ভাবনা! জয় করে ফেলেছেন আস্ত একটি নোবেল। মাত্র চুয়াল্লিশেই।
- বিশ্বযুদ্ধ সমকালে লেখা নাটকগুলোর মধ্যে ‘ক্যালিগুলা’ নাট্যসাহিত্যের এক উজ্জ্বল স্বাক্ষর। দু’হাজার বছরের প্রাচীন রোমান সম্রাট ক্যালিগুলা, মানুষের এক চিরন্তন আত্মবিনাশী স্বত্তা হিসাবে উঠে আসেন সেখানে। ইতিহাসের নতুন এক দৃষ্টিকোণ থেকে কামু তাঁর নায়ককে এক আত্মগর্বী মানুষ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেন। বোন এবং প্রেমিকা দ্রুসিলার মৃত্যু তাকে নিজের আয়নার মুখোমুখি দাঁড় করায়। সময়ের ছাঁদ বদলায় আর নায়ক জানতে পারে এক চিরায়ত সত্য, ‘মৃত্যুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষ অসুখি অতয়েব অসম্পূর্ণ’। কালো এক গভীর ছায়া, গভীর ক্ষতের মতো ক্যালিগুলার অন্তরে ক্ষরণ সৃষ্টি করে। নিরুপদ্রব, নিরুদ্বিগ্ন বেঁচে থাকার বদলে ক্যালিগুলা বেছে নেয় ধংসের পথ, বিনাশের পথ যার শেষ প্রান্তে আছে আত্মবিনাশের অনিবার্য পরিনতি। স্বেচ্ছাচারী, রক্তপিপাসু ক্যালিগুলাকে তার উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা গোপনে ষড়যন্ত্র করে খুন করে। এই পর্যন্ত নাটকের কাহিনি অংশের মূল ভাবনা বলা যেতে পারে। কামুর নায়কের কাছে মৃত্যুই শেষ কথা নয়। তার কাছে জন্মর ক্ষেত্রেও কোনও সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারে না, সেখানেও তার বলার বিষয় ‘আমায় তুই আনলি কেন ফিরিয়েনে’।
- “আওয়ার ক্রিমিন্যালস আর নো লঙ্গার দোজ হেল্পলেস চিল্ডরেন হু প্লিডেড লাভ অ্যাজ দেয়ার এক্সকিউজ অন দ্য কনট্রারি, দে আর অ্যাডাল্টস, অ্যান্ড দে হ্যাভ আ পারফেক্ট অ্যালিবাই: ফিলজফি, হুইচ ক্যান বি ইউজড ফর এনিথিং, ইভেন ফর ট্রান্সফর্মিং মার্ডারার্স ইনটু জাজস”।
- ৬২ বছর আগে দ্য রেবেল-এর ভূমিকার শুরুতেই কথাগুলো কামু লিখেছিলেন। তিনি, এই কলকাতায় একদা কফি হাউসের ব্ল্যাক কফি-সিক্ত গম্ভীর দর্শনচিন্তায় এতটাই উঠে আসতেন যে রসিকতাই চালু হয়ে পিয়েছিল, ‘কামু ধরিয়ে চুমু খাওয়া’। আর আজ তাঁর জন্মশতবর্ষে আরও একবার তিনি ভয়ঙ্কর ভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন বিশ্বজ্জন, নাগরিক সমাজ, জনগন, সিপিএম, তৃণমূল, পর্নগ্রাফিতে জট পাকিয়ে যাওয়া এই পশ্চিমবঙ্গে। বহু অন্তর্দ্বন্দ্বে বিক্ষত হয়ে বুঝেছিলেন, মানুষের ভবিষ্যৎ বিদ্রোহ, বিপ্লব ছাড়া বিদ্রোহে। আর সেটাই স্বাধীনতা না খুইয়েও পরিবর্তন আনার একমাত্র সুযোগ। মাঝে মাঝে আমাদেরকে পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ‘না’ বলতে হয়। কারন চিন্তাশীলতার দায় নয়, কোনও দার্শনিকতার দায়ও নয়, নিতান্ত সহজ বেঁচে থাকার, অস্তিত্বের সংকটের দায়। এবং, এই দায়টা রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেও মাঝে মাঝে বলতে হয়। এই ‘না’ বলাটাই বিদ্রোহ। ‘হোয়াট ইজ রেবেল? আ ম্যান হু সেজ নো: বাট হুজ রিফিউজাল ডাজ নট ইলপ্লাই আ রিনানশিয়েশন’। দ্যা রেবেল-এর প্রথম লাইনটা বহু বার পড়েছি আমরা, উত্তেজিত হয়েছি, বিপ্লবের আঁচ পুইয়েছি কফির কাপ হাতে। ‘না’ বলতে পারার দায়টা নিতে পেরেছি কি? সে ভাবনা থেকেই এই নাটকের জন্ম।
Venue: Madhusudan Mancha
-
Premium @ ₹500
Stock:: 104 seats
-
Gold @ ₹300
Stock:: 101 seats
-
Silver @ ₹200
Stock:: 66 seats
-
General @ ₹100
Stock:: 66 seats
Premium₹500
Gold₹300
Silver₹200
General₹100
