দেবী ও দাগ
- 23 Aug, 26
- 06:00 PM - 08:30 PM
- Shishir Mancha: Kolkata
“দেবী”
- ঝাড়খণ্ড আর বাংলার সীমানায় এক নাম না জানা ছোটো গ্রাম ‘মুড়িডিহা’। কিছুদিন আগে সদ্য ডাক্তারী পাশ করে সেই গ্রামের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসেন ডা: অমিতাভ রায়। বাইরে থেকে আপাত শান্ত নিস্তব্ধ এক আদিবাসী গ্রামের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা এক ক্রূর কুটিল রূপ আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসতে থাকে তার সামনে। কুসংস্কারের বেড়াজালে আটকে রেখে, ক্ষমতার আস্ফালনে, নারীদের উপর অলিখিত যে অত্যাচার তা ভয়ে কাঁপিয়ে তোলে ডাক্তার রায়কে। এই গ্রামে এসে অব্দি তার একমাত্র টান জন্মেছিল একটি সরল সাদা-সিধে আদিবাসী মেয়ে ‘বর্ষা’র জন্য। ভালোবেসে ফেলেছিল তাকে।
- তবে এই অসম ভালোবাসা, গল্পের কলম ছেড়ে কবেই বা বাস্তবে এত সহজে পূর্ণতা পেয়েছে! গ্রামের মোড়ল আর তার চ্যালাদের হাত থেকে, তার দিদি নীলমণি যেমন রেহাই পায়নি, বর্ষাই বা বেঁচে যেত কী করে? আচমকা এসে পড়ে সেই হিংস্র আঘাত। তবে এত কিছুর পরও বর্ষাকে থামানো যায়নি। ডাক্তারের ভালোবাসা আর নিজের মনের জোর কে সঙ্গী করে সে এই লড়াইতে বুক ঠুকে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু শত্রু অতি ভয়ানক। বৃষ্টি-বাদলের দিনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো বিষধর সরীসৃপের নিস্তব্ধ পদচারণার থেকেও হিংস্র এই মানুষের শত্রুতা। হঠাৎই, এই গ্রামে একটার পর একটা খুন হতে থাকে। অদ্ভুতভাবে, প্রতিটিই সাপের কামড়ে। একে একে মৃত্যুর অতল গভীরে তলিয়ে যেতে থাকে শয়তান মোড়লের যুদ্ধের ‘বোরে’ রা। তারপর এই লড়াইতে কী হয়? স্বল্প শিক্ষিত মানুষের কুসংস্কারকে হাতিয়ার করে কিভাবে মোড়ল আর তার চ্যালারা ঠেকায় এই গোপন আক্রমণ? কে দেবী? মানুষ হঠাৎ দেবী হল কী করে? কী করেই বা সেই দেবী হয়ে উঠলেন সকলের ত্রাণকর্ত্রী? এই লড়াই, এই দ্বন্দ্ব, আর সব শেষে এক চমকে দেওয়া মোচড়, এই নাটকের মূল উপজীব্য।
“দাগ”
- সব দাগ রক্তের নয়।
- কিছু দাগ জন্মায় বিশ্বাসে।
- কিছু দাগ ভালোবাসায়।
- আর কিছু দাগ—ইতিহাস নিজের হাতে এঁকে দেয় মানুষের মুখে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী ‘ঘরে বাইরে’-কে অবলম্বন করে নির্মিত ‘দাগ’ কোনো পুনর্কথন নয়। এটি এক সমকালীন পুনর্নির্মাণ—যেখানে রাষ্ট্রের ভাষা, জনতার উন্মাদনা, সংবাদ, প্রচার, মতাদর্শ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙাগড়া আজকের সমাজ-রাজনীতির অন্ধকার ও আলোর ভেতর নতুন অর্থ খুঁজে নেয়।
- নাটকের কেন্দ্রে রয়েছে কয়েকটি মানুষ—ভালোবাসা, বিশ্বাস, আদর্শ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার টানাপোড়েনে যাদের জীবন ক্রমশ বদলে যেতে থাকে। একদিকে ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন এক ক্যারিশম্যাটিক রাজনৈতিক মুখ – সন্দীপ, অন্যদিকে নৈতিকতার প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত এক বিবেকবান মানুষ- নিখিল, আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে এক নারী, বিমলার আত্মসন্ধান—যার চোখ দিয়ে আমরা দেখি সমাজ, রাষ্ট্র এবং মানুষের ভেতরের অদৃশ্য যুদ্ধ। তাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ায় আরও কিছু চরিত্র—যারা কখনও প্রত্যক্ষ, কখনও নীরব সাক্ষী হয়ে ওঠে এই সময়ের।
- যখন সত্যের চেয়ে উচ্চকণ্ঠ বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে, যখন দেশপ্রেমের সংজ্ঞা প্রতিদিন বদলে যায়, যখন মানুষের পরিচয় তার মানবিকতার আগে তার অবস্থান দিয়ে বিচার হয়—তখন প্রশ্ন জাগে, ঘর আসলে কোথায়? বাইরে-ই বা কত দূর?
- ‘দাগ’ উত্তর দেয় না।শুধু আয়নাটা সামনে ধরে।
- হয়তো নাটক শেষ হয়ে যাবে।কিন্তু অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরিয়ে আসার পরও, একটি প্রশ্ন অনেকক্ষণ আপনার সঙ্গেই হাঁটবে
- দাগটা কার?
- “এই নাটক কোনো পক্ষের নয়; এই নাটক সাহসীদের জন্য যারা প্রশ্ন করতে ভয় পায়না।”
Venue: Shishir Mancha
-
Premium @ ₹250
Stock:: 55 seats
-
Gold @ ₹150
Stock:: 66 seats
-
General @ ₹100
Stock:: 18 seats
Premium₹250
Gold₹150
General₹100
