হনুমতী পালা ও স্বাধীনতা হীনতায়
- 29 Mar, 26
- 02:30 PM - 05:00 PM
- Academy of Fine Arts: Kolkata
হনুমতী পালা
- “হনুমতী পালা” নাটকটি বিখ্যাত নাট্যকার মনোজ মিত্রের লেখা একটি রামায়ণী পালা নাটক। রায়গঞ্জ ইন্সটিটিউট প্রযোজিত এবং রাখী দে সরকারের নির্দেশনায় তৈরী এই নাটকে হাস্যকৌতুকের মাধ্যমে লঙ্কাপতি রাবণের অশোকবনে বন্দী সীতাকে উদ্ধারের বর্ণনা রয়েছে, আর পাশাপাশি নিস্পেষিত, অবহেলিত এক নারী সমাজের চিত্রও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই পালায় সীতাকে উদ্ধার করতে হনুমান নয়, পাঠানো হয়েছে হনুমতীকে যে কিনা এক নারী এবং এই পালা তে সে নারী শক্তির প্রতীক।
- পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষেরা মেয়েদের ভাবতে বাধ্য করে যে তাদের নিজস্ব ভাবনার কোনো অস্তিত্ব অবশিষ্ট নেই, “রাবণের” স্ত্রী “মন্দোদরী” একজন ধর্মপরায়ণ , পতিসেবায় মগ্ন নারী। একজন মহারানী হয়েও তার অন্তরের নারীশক্তি কখনোই প্রষ্ফুটিত হওয়ার সুযোগ পায়নি, সে সুখ খুঁজে নেয় স্বামীর সুখেই, নিজের ইচ্ছে শক্তিকে প্রশয় না দিয়ে সে সর্বদাই স্বামীসেবায় মগ্ন। অপরদিকে কুম্ভকর্ণের স্ত্রী “বজ্রজ্বালা” স্বামীসুখ থেকে বঞ্চিত হয়ে সারাদিন কলকের নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। তার স্বামী ছয় মাস জাগ্রত এবং ছয়মাস নিদ্রিত অবস্থায় থাকেন।
- সেই বেদনা থেকে মুক্তি পেতেই তিনি নেশাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকতে চান। বিভীষণ এর স্ত্রী ষড়মা অস্ত্র চালনায় পারদর্শী , রাজকার্য জানা বিচক্ষণ একজন মহিলা , তার স্বামী ন্যায়বান একজন মানুষ, সীতার মুক্তির দাবীতে রাবণ রাজ কে সম্মত করতে গিয়ে বিতাড়িত হতে হয়েছে তাকে লঙ্কাপুরী থেকে,সেই ব্যাথা বুকে নিয়ে ষড়মা প্রশাসনিক কাজ নিজ দক্ষতায় হাতে তুলে নিয়েছে, কিন্তু এই লঙ্কারাজ্য যে কতখানি মিথ্যা দ্বারা আবৃত এবং তার শাসনব্যবস্থা যে কতখানি নিম্নমানের এবং সেটা বদলের শক্তি যে ষড়মার নিজের হাতেই রয়েছে সেই বিশ্বাস তার মধ্যে কোনোদিন জন্মায়নি।
- কিন্তু সীতা উদ্ধারের জন্য আসা হনুমতি যে কিনা হনুমানেরই নারীসত্তা, অন্দর মহলের সকল নারীর মনে প্রতিবাদের বীজ বপন করে দিয়েছিলো। সীতা উদ্ধার এক প্রতীকী রূপ যার মাধ্যমে পুনরুদ্ধার হয় নারীর স্বত্তা ,জাগ্রত হয় নারীশক্তি, আর এভাবেই নারীরা অবশেষে বুঝতে পারে যে, “একমাত্র মেয়েরাই পারে মেয়েদের উদ্ধার করতে” ।
স্বাধীনতা হীনতায়
- এই নাটক এমন এক পরিবারকে নিয়ে যারা অত্যন্ত স্বাধীনতাপ্রেমী। সেই স্বাধীনতার বিনিময়মূল্য যাই হোক না কেন, তারা সকলে যে কোনকিছুর বিনিময়ে বেছে নেয় স্বাধীনতাই।
- কিন্তু স্বাধীনতা পেলেই কি সবাই সেই স্বাধীনতার মূল্য দিতে পারে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাধীনতা হয়ে ওঠে স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর মাত্র। দিনশেষে তখন মানুষ ফিরতে চায় বন্ধনের মাঝেই।
- এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র গজানন্দ। তাকে ঘিরেই এই টানাপোড়েন। গল্পের প্রয়োজনে কখনও তার সঙ্গে দেখা যায় তার বোন সুমিত্রাকে, কখনও বাবা সদানন্দকে, আবার কখনও স্ত্রী তিস্তাকে। এরা সকলেই বিভিন্ন সময়ে স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেইভাবে বাঁচায় অস্থির হয়ে ওঠে চারপাশের সবাই, এমনকি নিজেরাও।যে ছোট গল্প অবলম্বনে এই নাটক, সেটি লিখেছেন রমানাথ রায়। সেই গল্পের নাট্যরূপ দিয়েছেন শ্রী বিভাস চক্রবর্ত্তী।
Venue: Academy of Fine Arts
-
Premium @ ₹300
Stock:: 70 seats
-
Gold @ ₹200
Stock:: 60 seats
-
General @ ₹100
Stock:: 42 seats
Premium₹300
Gold₹200
General₹100

