” এই নাটকটি সত্যমূলক। এর ঘটনাটি কোথাও ঘটেছে কি না ঐতিহাসিকের ‘পরে তার প্রমাণসংগ্রহের ভার দিলে পাঠকদের বঞ্চিত হতে হবে। এইটুকু বললেই যথেষ্ট যে, কবির জ্ঞানবিশ্বাসমতে এটি সম্পূর্ণ সত্য।
ঘটনাস্থানটির প্রকৃত নামটি কী সে সম্বন্ধে ভৌগোলিকদের মতভেদ থাকা সম্ভব। কিন্তু সকলেই জানেন, এর ডাকনাম যক্ষপুরী। পণ্ডিতরা বলেন, পৌরাণিক যক্ষপুরীতে ধনদেবতা কুবেরের স্বর্ণসিংহাসন। কিন্তু এ নাটকটি একেবারেই পৌরাণিক কালের নয়, একে রূপকও বলা যায় না। যে জায়গাটার কথা হচ্ছে সেখানে মাটির নীচে যক্ষের ধন পোঁতা আছে। তাই সন্ধান পেয়ে পাতালে সুড়ঙ্গ-খোদাই চলছে, এইজন্যেই লোকে আদর ক’রে একে যক্ষপুরী নাম দিয়েছে। “
“জেলেদের জালে দৈবাৎ মাঝে মাঝে অখাদ্য জাতের জলচর জীব আটকা পড়ে। তাদের দ্বারা পেট-ভরা বা ট্যাক-ভরার কাজ তো হয়ই না, মাঝের থেকে তারা জাল ছিঁড়ে দিয়ে যায়। এই নাট্যের ঘটনাজালের মধ্যে নন্দিনী-নামক একটি কন্যা তেমনিভাবে এসে পড়েছে। মকররাজ যে বেড়ার আড়ালে থাকেন সেইটেকে এই মেয়ে টিকতে দেয় না বুঝি। ” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
এ্যাক্সিডেণ্টাল ডেথ অফ এ্যান এ্যানার্কিস্ট” অবলম্বনে
ক্ষমতার নির্বোধ আস্ফালনের সামনে যে কোনও প্রতিরোধই পাগলামো। যেমন পাগল ছিল ক্ষুদিরাম, বিনয় বাদল দীনেশ, যতিন দাস, ভগত সিং কিংবা নেতাজি সুভাষ। ইতিহাসের মানচিত্রে এমনতর পাগলেরা সর্বকালে সর্বস্থানে। তেভাগা তেলেঙ্গানা নকশালবাড়ি থেকে তিন কালা কানুনের বিরুদ্ধে দিল্লি অবরোধ করে থাকা কৃষকেরা কিংবা নারী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে যন্তরমন্তরে অলিম্পিক পদকজয়ী রেস্লার আর কলকাতার আরজিকরের পশুদের বিরুদ্ধে রাত দখলের ডাক দেওয়া যমুনাবতীরা। পাগলের অভাব নেই এ মহা পৃথিবীতে।
ইতালির মিলানে কাস্টোডি ডেথের ঘটনা পরম্পরায় এমনই এক পাগলের মুখোমুখি আমাদের দাঁড় করিয়ে ছিলেন নাট্যকার দারিও ফো। আর তেমনই সত্তর দশকের আর এক ঘটনার সুত্রে মিলান লালবাজার এক করে দিয়ে অন্য এক পাগলকে দেখিয়েছিলেন আমাদের উৎপল দত্ত। ইদানিং পাগল কি কম পড়িয়াছে? না। কখনোই না।
চলন্ত প্রিজন ভ্যান থেকে এক্রোব্যাট বিপ্লবীর ল্যাম্প পোস্ট তাক করে উড়ন্ত হেড মারার হাস্যকর পুলিশি বয়ানকে মাথায় রেখে পিএলটি আমাদের সামনে এনেছেন এ সময়ের অনবদ্য পাগলকে। ক্ষমতার নির্বোধ আস্ফালনের মুখোমুখি দুনিয়ার পাগল কি এক হবে?
এ সময় যেখানে প্রচলের নিয়ম মানলে তবে মানুষ সমাজে স্বীকৃত, যেখানে স্বপ্ন দেখা মানা, নিজের শেকল খুলে উড়তে চাওয়া মানা, সেখানে একজন মানুষ বাঁধ ভেঙে দেওয়ার সাহস দেখাবে কী করে?
আর যদি সত্যিই সে সাহস একদিন সে পেয়ে যায়, পেয়ে যায় স্বপ্নলোকের চাবি, পেয়ে যায় তার উড়তে পারার ইচ্ছেপুরণের মন্ত্র… তখন কী হয়? কী হয়… যখন সে তার এই উড়তে শিখে যাওয়ার চাবিকাঠি দিয়ে ভেঙে দিতে চাউয় আরও অনেক স্থবির মানুষের শেকল থেকে জং ধরা তালাগুলো? সে কি পারে? এই পৃথিবী কি তাকে তা পারতে দেয়? যেখানে সকলেই খাঁচার পাখি, সেখানে এ পৃথিবী কি কোনও বনের পাখির এ স্পর্ধা মেনে নেয়?
মানুষ বড় একলা। তার পাশে কেউ দাঁড়াক বা না-ই দাঁড়াক, সে তো খোলা আকাশে উড়তেই চায়। এ ওড়ার ফলশ্রুতি কী হবে, সমাজ তাকে মেনে নেবে কি নেবে না, তা নিয়ে তার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। সে কেবল নিয়মের দাসত্ব থেকে, এই একঘেয়েমির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চায়, সে চায় এই বস্তাপচা প্রাত্যহিকতার চাকা থেমে যাক। শুরু হোক এক নতুন যাত্রা।
এ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র গোপীনাথ সামন্ত তেমনই এক স্বপ্নচারী মানুষ। এ সমাজ তাকে হয়ত উন্মাদ বলে, কিন্তু কে না জানে, প্রকৃত স্বপ্নচারীরা, শেকল ভাঙতে চাওয়া মানুষেরা আসলে তো একরকম উন্মাদই হয়। তার অস্তিত্বে সে বন্দী, কিন্তু তার সত্বায় সে স্বাধীন।
গোপীনাথ এ জীবনে পার্থিবভাবে, হারিয়েছে অনেক কিছু, পায়নি আরও বেশি… কিন্তু যে আকাশের সন্ধান সে পেয়েছে, তাতেই তার মুক্তি। কৌশিক চট্টোপাধ্যায়ের এ নাটক সেই স্বপ্নের কথা বলে।
ভিক্টর ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন একজন বিজ্ঞানী, যিনি মৃতদেহের বিভিন্ন অংশ দিয়ে একটি বীভৎস, জীবন্ত প্রাণী তৈরি করেন। শুরুতে প্রাণীটি স্নেহ চেয়েছিল, কিন্তু প্রত্যাখ্যান ও ভয় পাওয়ার পর সে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে, যা স্রষ্টা এবং সৃষ্টি উভয়ের জন্যই বিয়োগান্তক পরিণতি ডেকে আনে। এই উপন্যাসের আরেকটি নাম ছিল “দ্য মডার্ন প্রমিথিউস”।
নাটকটিতেও ভালোবাসার ছোঁয়া দিয়ে একই কাহিনীরেখা রয়েছে। নাটকটি প্রতিটি চরিত্রের, বিশেষ করে ভিক্টর ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন ও প্রাণীটির দৃষ্টিকোণ থেকে ভালোবাসার ধারণাকে তুলে ধরে। নিজের স্রষ্টার দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার যন্ত্রণা এবং এই পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য প্রাণীটির সংগ্রাম নাটকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে। পরিত্যক্তদের বেঁচে থাকার সংগ্রামই নাটকের কেন্দ্রীয় বিষয়।
মৃতকে প্রাণ দেওয়ার জন্য ভিক্টরের অহংকার এবং নিজেকে ঈশ্বরের সঙ্গে তুলনা করা দেখায় যে কীভাবে অহংকার তার নিজের এবং তার প্রিয়জনদের ধ্বংসের কারণ হতে পারে। ভিক্টরের খোঁজ এবং প্রাণীটির দ্বারা সংঘটিত অনিচ্ছাকৃত মৃত্যুগুলো কাহিনীকে গঠন করে। এলিজাবেথ ও ডিলেসির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, প্রাণীটির কাজ তাদের মৃত্যুর কারণ হয়। এমনকি উইলির (উপন্যাসে উইলিয়াম) মৃত্যুও অনিচ্ছাকৃত ছিল।
নাটকটি এমন একটি আহ্বানের মাধ্যমে শেষ হয় যা সমস্ত পরিত্যক্ত এবং যারা বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করে তাদের বেঁচে থাকার সমান অধিকার দাবি করে। বেঁচে থাকা ও টিকে থাকার এই আহ্বান জানায় প্রাণীটি নিজেই, যে সমাজ দ্বারা পরিত্যক্ত।
“Tumi Thik, Jodi bhabo tumi thik” is based on “Right You Are—If You Think You Are” a play by Luigi Pirandello, produced in Italian in 1917 as Così è (se vi pare) and published the following year. This work, like almost all of Pirandello’s plays, contrasts art and life, demonstrating that truth is subjective and relative.
Raju Kotal, his wife and his mother-in-law’s interrelationship raise endless curiosity amongst some of their influential neighbours. The curiosity reaches a level that creates turmoil in their personal lives. Inspite of all these, does the real truth come out? … or is it that truth is indeed “relative”?