ফেলে আসা মেগাহার্টজ
- 20 Sep, 26
- 03:00 PM - 04:30 PM
- Tapan Theatre: Kalighat
- নাটকটি এক মানুষের জীবনের কাহিনি এবং সঙ্গীতের সঙ্গে তার গভীর আবেগময় বন্ধনের কথা বলে। নায়কের আত্মকথনের ভেতর দিয়ে ১৯৬৫-পরবর্তী ভারতের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত দর্শকের চোখে জীবন্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁদের মনে জাগে গভীর নস্ট্যালজিয়া। নায়ক নিজেই নিজের জীবনকাহিনি বর্ণনা করেন; মঞ্চে উপস্থিত চরিত্ররা সেই বর্ণনার সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যগুলি অভিনয় করে তোলে।
- নায়ক মশারির ভেতর থেকে কথা বলতে শুরু করেন। জীবন ও মৃত্যুর নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে জাত এক দার্শনিক উপলব্ধি তিনি উচ্চারণ করেন। তারপর ফিরে যান যৌবনের সেই দিনে—ঠাকুমার শেষকৃত্যের জন্য শ্মশানে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মুহূর্তে। স্মরণ করেন কীভাবে একটা গান তাঁকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করেছিল যে নিকটজনের মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ভুলে গিয়েছিলেন।
- আবার ফিরে যান স্কুলজীবনে। কোঠারি কমিশনের সুপারিশে নারীশিক্ষা, মধ্যাহ্নভোজন ও ছাত্রাবাসের ব্যবস্থা—এসবের ফলে স্কুলে ছেলেমেয়ের সংখ্যা বেড়ে ওঠে। দর্শক নস্ট্যালজিক হয়ে ওঠেন নায়ক ও তাঁর সহপাঠীদের স্কুলজীবনের প্রেমের দৃশ্য দেখে।
- স্মরণ করেন টাইটানিকের কাহিনি—যে কাহিনি দাদু মাকে বলেছিলেন, এবং উদ্ধারজাহাজ থেকে বিপদের যে রেডিও বার্তা এসেছিল। দাদু কীভাবে রেডিও তৈরি ও মেরামতের দোকান খুলেছিলেন, মায়ের বিয়ে কীভাবে হয়েছিল—সব ফিরে আসে। দেখা যায় কংগ্রেস-সমর্থক বাবা ও অন্যান্যরা রেডিওতে খবর শোনেন, আর সেই বাবা কীভাবে মা ও নায়ককে নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করতেন।
তারপর সেই দিন—যখন প্রথম দেখা হয় প্রেমিকার সঙ্গে। বন্ধু সমরের সাহায্যে প্রস্তাব রাখার সেই দৃশ্য—পূর্ণ কৌতুক ও হাস্যরসে।
—— অন্তরাল ——
- মশারির ভেতরে নায়ক আবার কথা বলেন। এক অদ্ভুত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি যেন শুয়ে আছেন। স্মরণ করেন কংগ্রেস সরকার কীভাবে কিশোর কুমারকে সমস্ত সরকারি মাধ্যম থেকে নিষিদ্ধ করেছিল এবং ভারতের সচেতন নাগরিক ও শিল্পীসমাজ কীভাবে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
- দেখা যায়—গানপাগল নায়ক সব গায়কের গান শোনার জন্য সর্বত্র ঘুরে বেড়ান। এক জলসায় বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপান করে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন। একদল যুবক জানালার আড়াল থেকে এক নগ্ন নারীর দেহ দেখছে। হঠাৎ বুঝতে পারেন—সেই নারী তাঁর প্রেমিকার মা।
- বিবেকের দংশনে পাগলের মতো ছুটে যান সেই পুকুরপাড়ে, যেখানে একদিন প্রেমিকার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। সেখানে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোর হলে বাড়ি ফিরে দেখেন—দুই রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে বাবার মৃত্যু হয়েছে। কান্না আসে না। গান ছাড়া তাঁর কোনো আবেগই নেই। মা তাঁকে চড় মারেন কান্না আনার জন্য—কিন্তু পারেন না।
- মা রেডিও ভেঙে ফেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর তাঁকে পাগলাগারদে নেওয়া হয়। গান-থেরাপি দেওয়া হয়। যতক্ষণ গান শোনেন, ততক্ষণই তাঁর আবেগ ফিরে আসে। গান ছাড়া তিনি আবেগহীন। তাই প্রতি মহালয়ায় তিনি তর্পণ করেন—পূর্বপুরুষদের এবং সেইসব গায়কদের, যাঁরা তাঁকে আবার স্বাভাবিক মানুষ করে তোলেন।
Venue: Tapan Theatre
-
Premium @ ₹500
Stock:: 33 seats
-
Gold @ ₹300
Stock:: 29 seats
-
Silver @ ₹200
Stock:: 48 seats
-
General @ ₹100
Stock:: 139 seats
Premium₹500
Gold₹300
Silver₹200
General₹100
