Archives: Events
যে জানলাগুলোর আকাশ ছিল

- কলকাতার আনাচে কানাচে এখনো লুকিয়ে আছে পুরোনো পুরোনো গন্ধ আর কিছু ফেলে আসা বন্ধুত্ব । এই নাটকও সেই পুরোনো কলকাতার বন্ধুত্ব প্রেম আর তার সাথে জড়িয়ে থাকা মান অভিমান রাজনীতি পারিপার্শ্বিক উত্থান পতনের কাহিনি । দক্ষিণ কলকাতার কলোনি পাড়ার ৪ বন্ধু সোমা, টুবাই, বুবান এবং তাতিন ।
- ৯০-এর দশকে তাদের বেড়ে ওঠা। কলোনির আন্তরিকতা, প্রতিটা পরিবারের একসাথে মিলেমিশে দিন যাপন , বিপদে আপদে পাশে থাকার শিক্ষায় তারা শিক্ষিত ।
- সময় এগোতে থাকে বড় হয়ে ওঠার সাথে সাথে তাদের মানা-না মানা, বিশ্বাস-অবিশ্বাস, রাজনৈতিক, সামাজিক মতাদর্শ যেন দূরে ঠেলতে শুরু করে ছোটবেলার বন্ধুদের একে অপরের থেকে। শেষে আবার কোনো এক পাড়ার চায়ের দোকানে এক হতে পারবে তারা? নাকি যে জানলাগুলোর আকাশ ছিলো, তাদের পাল্লা গুলো চিরতরে বন্ধই থেকে যাবে?
- A city steeped in nostalgia and matured in the heritage of poetry and revolution, our play has its inception in its street corners. A tale which is inseminated in the heady brew of friendship, romance, heartbreaks, and the political ebbs and flows, the magical amniotic fluid that is our Calcutta.
- Our story sets off in the 90s,in the southern corner of The City. A narrative that pivots around four friends; Soma, Tubai, Buban and Tatin. Their growing up, their dreams, beliefs and aspirations. How they evolve through the adventures revolving around their intertwined lives in the colony they lived in. How time in its ruthlessness, and how, the development of their own political and moral ideologies put their friendship to test.
- Will they be able to come together as one again, meet at the same old haunts where they once left each other. Will they be able to open those windows again; the ones that gave them the access to wide blue yonder.
অ-পরাজিতা
নাট্যগুরু শাঁওলী মিত্র স্মরণে তাঁর জন্মদিনে পঞ্চম বৈদিক এবছর ৫ই এপ্রিল ২০২৬ শাঁওলী মিত্র স্মারক সম্মান প্রদান করবে শ্রদ্ধেয়া শ্রীমতি সীমা মুখোপাধ্যায়কে। ঐদিন সন্ধ্যায় পঞ্চম বৈদিকের নাট্য “অ-পরাজিতা” মঞ্চস্থ করব আমরা।
- পঞ্চম বৈদিকের প্রযোজনায় “অ-পরাজিতা” রবি ঠাকুরের দুইটি ছোটগল্প— অপরিচিতা এবং হৈমন্তী — অবলম্বনে নির্মিত।
- এ নাটক সমাজের রীতি, বিয়ে ও পারিবারিক অহংকারের ভেতরে আটকে থাকা নারীর জীবনের গল্প নিয়ে। একদিকে “অপরিচিতা”-র সেই মেয়ে, যে আত্মসম্মানকে সবকিছুর উপরে রাখে এবং অনর্থক সামাজিক শর্তের কাছে নতিস্বীকার করে না; অন্যদিকে “হৈমন্তী”-র কোমল কিন্তু আত্মমর্যাদাবোধে দৃঢ় এক তরুণী, যে সংসারের অবহেলা ও মানসিক অত্যাচারের মধ্যেও নিজের মর্যাদা হারায় না।
- এই দুই নারীর অভিজ্ঞতা একসূত্রে গেঁথে নাটকটি তুলে ধরে—নারীর নীরব শক্তি, আত্মসম্মান এবং সমাজের কঠোর রীতির বিরুদ্ধে তার অবিচল অবস্থান। তাই সে পরাজিত নয়—সে অ-পরাজিতা।
চলো পটল তুলি

- ‘চলো পটল তুলি’ একটি আদ্যন্ত হাস্যরসের নাটক। এ নাটকের সময়কাল পঞ্চাশ/ষাটের দশক। নাটকের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছেন এক বাতিকগ্রস্ত যুবক, যার পাশের বাড়ীতে ‘বেরি-বেরি’ রোগ হয়েছে শুনে সে স্বার্থপরের জীবনযাপন শুরু করে।
- সে নানান উপায়ে সেই রোগকে নিজের বাড়ীতে ঢোকার প্রতিরোধ করে চলে, যে উপায়গুলি তার আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের একেবারেই অপছন্দের। কিন্তু এই যুবকের আত্মকেন্দ্রিকতা তাকে বিভিন্ন হাস্যকর পরিস্থিতির মধ্যে এনে ফেলে।
- দেরীতে হলেও, শেষে সে বুঝতে পারে নিজের ভুল, কিন্তু ততক্ষণে সেই যুবকের শত্রুর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। দেদার হাসির আড়ালে মূল বক্তব্য হল- ‘স্বার্থসর্বস্ব হয়ে বেঁচে থাকলে একা হয়ে যেতে হয়। সকলকে নিয়ে একসঙ্গে বাঁচার নাম হল জীবন’।
উইটনেস
- আইনজীবীদের একটা অংশ পেশার নামে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে আসল অপরাধীদের শাস্তি এড়িয়ে যেতে সাহায্য করেন। যুক্তির মায়াজালে, এমনকি ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়েও তাঁরা প্রকৃত সত্যকে মিথ্যা বলে প্রমাণ করেন।
- কিন্তু অদৃষ্টের পরিহাসে তাদের জীবনেও নেমে আসতে পারে চরম শাস্তি। তেমনই একটি কাহিনীর আধারে থেসপিয়ানস নাট্যদলের নবতম নাট্যপ্রযোজনা “উইটনেস”।
১৯ ফেব্রুয়ারি মধুসূদন মঞ্চে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত “সাজাহান” নাটকের দর্শক অভিনন্দিত প্রদর্শনের পর থেসপিয়ানস্ এবার মঞ্চস্থ করতে চলেছে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক “উইটনেস”
বিনোদিনী অপেরা
- Binodini opera is a music-based drama written and directed by Abanti Chakraborty, with Shibashis Bandopadhyay as Co-Writer and Rudroroop Mukhopadhyay playing the role of a dramaturg.
- This ensemble cast based theatre revolves around the life and chronicles of Nati Binodini Dasi, the prima donna of Bengali Theatre of 18th Century. Binodini Dasi, coming from the so-called prohibited quarters of a harlot’s bed, had risen to be the star of theatre by sheer practice, perseverance, and penance. Guided by her Guru Girish Ghosh, she had left no stones unturned to have a theatre for the p ublic. Debauched and denuded by her male counterparts, she silently left the stage at the zenith of her career.
- The theatre embodies an ensemble cast with the historical presence of Girish Ghosh,Amritalal Basu,Gurmuk Roy,Kumar Bahadur,Rangababu and a plethora of the then who’s who of Bengali theatre. The theatre attempts to question the patriarchal hierarchy of contemporary times through a narrative of songs and expository performances. Interestingly,enough, the presence of patriarchy has not much mired with time.
পাগলা ঘোড়া
নটের পাঁচালী
- এক গ্রাম্য অনামী নাট্য অভিনেতার জীবনগাঁথা। নাট্য অন্ত প্রাণ অভিনেতা পুরুষোত্তম, তার পেশাগত জীবনের সাপ লুডো খেলাতে পুরোপুরি ব্যর্থ। অভিনয় জীবনের প্রথম দিকে সামান্য সফলতার আলো দেখতে পেলেও, তার জীবন যত এগিয়েছে দারিদ্রতা তাকে গ্রাস করেছে। সেই দারিদ্রতার ছোবলে একে একে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছে তার বাবা, মা, স্ত্রী এবং বড় কন্যা। একই কারণে জীবনের শেষ সঙ্গী বা তার অভিনয় জীবনের শেষ দর্শক তার ছোট কন্যা আজ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছে। এই গভীর শোক পুরুষোত্তম কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। নিজের ছোট কন্যার মৃতদেহ বহন করে শ্মশানে এসে পাগলের মত প্রলাপ বকছে পুরুষোত্তম। সেই প্রলাপের মধ্যেই পুরুষোত্তমের অবচেতন মনের জানালায় কখনও উঁকি দিচ্ছে তার বাবা, কখনও তার মা, কখনও তার শশুর, কখনও তার স্ত্রী, বা কখনও তার বড় মেয়ে। জীবনের এতকিছু বিপর্যয়ের মধ্যেও পুরুষোত্তম আজীবন তার অভিনয় জীবনের পুরনো শিক্ষা বোধ, চেতনা, আদর্শ, এসব আকড়ে ধরেই বেঁচে থাকতে চেয়েছে। সে কিছুতেই মানতে পারেনা যে, সমসাময়িক যান্ত্রিক জীবনে এসব এখন অচল। তাই ঘটনার সাপেক্ষে সকল চরিত্রের সাথেই পুরুষোত্তমের এই মানসিক দ্বন্দ্ব চলতেই থাকে। কোনও চালাকি বা চমক কে সে তার অভিনয় জীবনে সফলতা পাওয়ার জন্য ব্যবহার করেনি বা প্রশ্রয় দেয়নি। কিন্তু বর্তমান সময়ের নিরিখে চালাকি, চমক বা চটক শৈল্পিক জীবনে সফলতা পাওয়ার মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে। শ্মশানে এই বিষয়েরই উদাহরণ হিসেবে দেখতে পায় ডোম গণেশ কে। গণেশ ডোম হিসেবে চাকরি করে, আবার পাশাপাশি তার শ্মশানে প্রতিদিন আসা শ্মশান যাত্রীদের কান্না বা শোক প্রকাশের ভিডিও তৈরি করে ব্লগিং করে এবং অর্থ উপার্জন করে। মানুষের স্পর্শকাতর সকল অনুভূতি বিক্রয়ের এই পথ অবাক করে পুরুষোত্তমকে। তবুও বিশ্বায়নের কুফলে মূল্যবোধহীন সমাজ ব্যবস্থার কাছে মাথা নত করে না পুরুষোত্তম। ছোট কন্যার চিতার আলোতেও সে তার গুরুর শেখানো অভিনয়ের চর্চা চালিয়ে যেতে থাকে। আর আমরা দেখতে পাই, প্রকৃত শিক্ষা, রুচি, বোধ ও চেতনায় মোড়া এক শিল্পী কিভাবে ধীরে ধীরে হতাশার অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে ! দেখতে পাই, এক প্রকৃত শিল্পীর শৈল্পিক, প্রেমিক, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের ইতিকথা।
- সৃজনে :
- আবহ সংগীত – পন্ডিত দিশারী
- আলো প্রক্ষেপণ- অমিতাভ সেনগুপ্ত, শব্দ প্রক্ষেপণ ও আবহ সংযোজন –অমরেশ ব্যানার্জী, গানের কন্ঠ – অভিষিক্তা ব্যানার্জি
- সহকারী নির্দেশনা – দীপশিখা চক্রবর্তী ও পারভীন সুলতানা,
- মঞ্চ নির্মাণ –সুমন্ত দাস
- প্রচার অংকন -প্রিন্ট সিটি, সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা – বিশ্বজিৎ কুন্ডু, অসীম বসু, সত্যব্রত দোলুই।
- নাটক, মঞ্চ,আলো ও নির্দেশনা : প্রেমাংশু রায়
ভালো পাহাড়
- একটি পাহাড় চূড়ায় আধা তৈয়ার হোটেলের ঘরে গুটিকয়েক মহিলার বই-ঠেকখানা। কিন্তু শুধুমাত্র সাহিত্যের পাঠ নয়, বরং এই অ্যানথ্রোপোসিন সময়ে দাঁড়িয়ে তারা তাদের কাহিনী বুনে চলে । সুদূর – নিকট আর বর্তমান মিলিয়ে মিশিয়ে এক আধা অন্ধকারের সম্পর্ক তৈরি করে এরা। বিশ্বস্ততা ও বিশ্বাসঘাতকতার স্থির দৃষ্টিতে ঝরতে থাকে বিষ। কারোর মন ভোগের ব্যসনে তৃপ্ত, তাই সতর্ক; কেউবা নষ্ট প্রকৃতিকে সুস্থ করার স্বপ্ন দেখে, রুক্ষ পাথরের মধ্যেও খুঁজতে থাকে সবুজ, দু’মুঠোতে সূর্য কিরণ ছড়িয়ে দেবার স্পর্ধায় বাজি রাখে হৃদস্পন্দন। অন্দর-বাহিরে এখন যেন চলছে এক দখলদারীর সন্ত্রাস। বেদখল হয়ে যাচ্ছে আমাদের পার্শ্ব ও স্পর্শ। শুধু তো প্রকৃতি নয়, আমাদের যাবতীয় ঐতিহ্য-স্মৃতি-স্থিতি ও সম্পর্ক নিয়ে যে স্বেচ্ছাচার আর স্বৈরাচার তার নির্লজ্জ বাস্তবে আসুন একবার দাঁড়াই ‘ভালো পাহাড়’-এ হেলান দিয়ে।
- নাটক জুড়ে, মঞ্চ জুড়ে – দৃশ্যতই – প্রতিবাদী নারী- সমাবেশের আর্তি-দ্বন্দ্ব- সংঘাত – অন্তর্বিরোধ- সংশয়ের এ এক দুর্লভ শিল্পগুণঋদ্ধ দৃষ্টান্ত ।….শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়
নিম অমৃত
- এয়ারফোর্স পাইলট আর্য বিমান দুর্ঘটনার কারণে পঙ্গু হয়ে মৃত্যুর দিন গুনছে। বিদেশে কর্মরত তার যমজ ভাই মৌর্য এখন ছুটি নিয়ে বাড়িতে। ওদের বাবাও ছিলেন সেনাবাহিনীতে, শহীদ হন কার্গিল যুদ্ধে; দুই ভাই সেসময় মায়ের গর্ভে। মা মিলি মুখার্জী এক অত্যন্ত দৃঢ়চেতা মানুষ; স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর জন্মানো যমজ দুই সন্তানকে মানুষ করেছেন বড় যত্নে। হিতাকাঙ্ক্ষী অকৃতদার মেজর মল্লিক সবসময় এই অসহায় পরিবারটির পাশে থেকেছেন। পারিবারিক ডাক্তার বর্মণ রোজই আসেন আর্য’র কাছে ওর চিকিৎসার প্রয়োজনে। জানা যায় আর্য খুব বেশি হলে আর পাঁচ কি ছ’মাস বাঁচবে। সে নিজেও সেটা জানে এবং একজন যোদ্ধার মতোই রণে ভঙ্গ না-দিয়ে নিয়তির সঙ্গে লড়ে যায় এক অসম লড়াই। পঙ্গু হয়ে পড়ার পর থেকে নার্স রুবেনাকে নিয়োগ করা হয় ওর দেখভালের জন্য। আর্য’র স্ত্রী নন্দা ভীষণই ভালোবাসে আর্যকে, যদিও মৌর্য’র সঙ্গেও প্রকাশ পায় তার অন্তরঙ্গতা। পরিবারের প্রতিটি সদস্য, নার্স রুবেনা, ডাক্তার বর্মণ, মেজর মল্লিক — সকলেই মানসিকভাবে তৈরি আর্য’র অনিবার্য পরিণতির জন্য। সবই ঠিক ছিল কিন্তু একেবারেই আচমকা এক রাতে ঘুমের মধ্যেই আর্য’র মৃত্যু বদলে দেয় সব হিসেব। ওর আকস্মিক মৃত্যু রুবেনা স্বাভাবিক বলে মেনে নেয় না; তার দাবী আর্যকে খুন করা হয়েছে।

