সে আছে। সে সব শুনতে পায়। গাছের শুকনো পাতার ওপর দিয়ে সাপের চলাফেরা, জঙ্গলের পোকামাকড়ের ডাক, হাওয়ার কাঁপন আর মানুষের ষড়যন্ত্র। সব সে শুনতে পায়। আর জেগে থাকে ঘুমহীন চোখে। জঙ্গলের পিশাচ সে। অরণ্যের অপদেবতা।
নিষ্ঠুর আক্রোশে সে হত্যা করে মানুষদের। ঘাতক সে। কেউ তার হাত থেকে নিস্তার পাবে না। আর যদি পায় তাহলে আরও বড়ো বিপদ অনিবার্য। ঘাতক যদি কখনো হয় আহত আর আহত যদি হয়ে ওঠে ঘাতক, মানুষ আর দানবের সংঘাতে কার পক্ষ নেওয়া যাবে তখন!
শ্বাসরুদ্ধ এক গা ছমছমে আবহে মঞ্চে নেমে আসছে অরণ্যের দানব…
মর্মকথা নাটকটি সমারসেট মমে্র “THE SACRED FLAME” এর ভাবানুবাদ। এখানে নাট্যকার সমারসেট মমে্র নাটকের মূল গল্পটি বজায় রেখে সম্পূর্ণ ভারতীয় তথা বাঙ্গালি আঙ্গিকে বর্তমান সময়ের নিরিখে কাহিনীকে এনে হাজির করলেন- যেখানে বাড়ির বড় ছেলে ভীষ্ম পাইলট, সদ্য বিবাহের পর বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর দেহের নিম্নাঙ্গ চিরকালের জন্য অকেজো হয়ে যায়। ভীষ্ম তাঁর স্ত্রী লহরীকে অসম্ভব ভালোবাসে,এই ব্যর্থ দাম্পত্য জীবনের ঘেরাটোপ থেকে ভীষ্ম লহরীকে মুক্তি দিতে চায়। কিন্তু লহরীকে ছেড়ে দিতেও তাঁর কষ্ট হয়। এইসময় বিদেশ থেকে আসে ছোট ভাই অর্ক। অর্কের সাথে লহরীর একটি অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এদিকে ভীষ্মের জন্য নার্স রাখা হয় এবং তারও ভীষ্মর প্রতি অনুরক্তি গড়ে ওঠে এবং ভালোবেসেই সেবা করতে থাকে। এমনই এক পরিস্থিতিতে বড় ছেলে ভীষ্মর আকস্মিক মৃত্যু হয়। নার্সের মনে হয় এই মৃত্যু অস্বাভাবিক। পারিবারিক ডাক্তারের দেওয়া ডেথ সার্টিফিকেটকে সে চ্যালেঞ্জ জানায়। এইসময় বাড়িতে উপস্থিত হন এঁদের পরিবারিক বন্ধু প্রাক্তন CBI অফিসার বাল্মিকী। মৃত্যু রহস্য একের পর এক বিভিন্ন বাঁক নিতে থাকে। প্রশ্ন আসে এই মৃত্যু কি স্বাভাবিক ? আত্মহত্যা নাকি হত্যা ? নাটকে উঠে আসে জীবনের বিভিন্ন স্তর এবং তার বহু জটিলতা। আমাদের সাজানো সংসারের রূঢ় বাস্তবের বিচিত্র কাহিনী। অপত্য স্নেহ,অনাবিল বন্ধুত্ব, আনুগত্য প্রেম, দাম্পত্য সম্পর্কের ভালোবাসা মাখা উষ্ণতা, নাছোড় পরকীয়া ইত্যাদি বহুবিধ সম্পর্কের তীব্র টানাপোড়েন, দ্বন্ধ ও তার সংকট নাটকের এক দৃশ্য থেকে আরেক দৃশ্যে উপস্থাপিত হতে থাকে। আমরা দেখতে থাকি বিভিন্ন মানবিক সম্পর্কের দ্বিস্তরীয় ও ত্রিস্তরীয় রূপ। দেখতে পাই ইংরেজ কবি ও দার্শনিক কোলরিজ এর কবিতার এক চলমান প্রতিচ্ছবি ।
All thoughts, all passions, all delights
Whatever stirs, this mortal frame,
All are but ministers of Love,
And feed his sacred flame
নাটকটি তখন আর নিছক মৃত্যু রহস্যে থেমে থাকে না। নাটকটি Larger than life এর গল্প শোনায়৷ এই নাটক তখন দেশ কালের গন্ডী পেরিয়ে এক বৃহত্তর জীবন আদর্শের কথা বলে। আরও বেশি করে আমাদের মানুষ হতে শেখায়।
“CAESAR” (44BC-2024 AD) is a visionary production that reimagines Shakespeare’s timeless tragedy in a contemporary context. The story follows the rise and fall of Julius Caesar, a powerful leader who is ultimately assassinated by a group of senators who fear his growing power.
The production takes a bold approach, incorporating a range of innovative elements to bring the story to life. The Soothsayer, a enigmatic figure who transcends time and space, serves as a cautionary voice, warning against the dangers of authoritarianism.
In a Brechtian twist, the Soothsayer engages in a poignant debate with the modern Shakespeare, probing the conscience of intellectuals and the privileged elite. This fusion of classical elegance and contemporary commentary revitalizes the Swan Theatre tradition.
Meanwhile, four enslaved voices – Venus, Vulcan, Eros, and Psychae embody the resilience of the working class, their protests echoing through the corridors of history against oppressive regimes and the apathy of the affluent and educated.
Through this production, we aim to create a searing reflection on power, privilege, and the enduring struggle for justice. By fusing ancient and modern elements, we hope to inspire audiences to think critically about the consequences of unchecked power and the importance of defending democracy.
Ultimately, “CAESAR” is a call to action, urging audiences to recognize the relevance of Shakespeare’s timeless tragedy to our modern world.
গুপ্তবংশীয় নৃপতি রামগুপ্ত’র উপস্থিতি প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসবিদরা দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তকে ভ্রাতৃঘাতী আখ্যা দিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু কেন? কি সেই ষড়যন্ত্র? পদ্মাবতী রাজকন্যা ধ্রুবদেবীই বা কি ভাবে জড়িয়ে পড়লেন সেই ষড়যন্ত্রে? সংস্কৃত নাট্যকার বিশাখদত্ত রচিত, প্রায় অবলুপ্ত নাটক ‘দেবী চন্দ্রগুপ্তম্’ নাটকের উদ্ধারপ্রাপ্ত তেরোটি শ্লোক এবং সে সময়ের যতটুকু ইতিহাস জানা যায়, তার উপর ভিত্তি করেই রচিত এই নাটক। সমুদ্রগুপ্ত ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত’র মাঝের কিছুটা সময় এ নাটকের মূল স্রোত। সে সময়ের সব তথ্য যে অভ্রান্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, তেমন নয়। যতটুকু পাওয়া যায়, আমরা সে সবের মধ্যে থেকে মূল নির্যাসটুকু আহরণ করে নাটকের আকারে গাঁথার চেষ্টা করেছি মাত্র।
আমরা বিশ্বাস করি, যে ‘মুদ্রারাক্ষস’এর প্রণেতা বিশাখদেব বা বিশাখদত্ত যদি আর কিছু না লিখে শুধু ঐ একটি নাটকই লিখে যেতেন, তবুও আজ তাঁর নাম সমভাবেই উচ্চারিত হত। কিন্তু তিনি ‘দেবী চন্দ্রগুপ্তম্’ নামে আরও একটি নাটক লিখলেন, যা আরও বেশী বিতর্কের জন্ম দিল, আরও বেশী চর্চার জন্ম দিল। দুঃখের বিষয়, যে এই নাটকটি তার সম্পূর্ণ শরীরে পাওয়া যায় না। গবেষকেরা এর মাত্র তেরোটি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করতে পেরেছেন। ‘নাট্যদর্পণ’ গ্রন্থে ছ’টি অংশের শ্লোক পাওয়া যায়, তিনটি অংশ ‘শ্রী ভোজ’এর ‘শৃঙ্গার প্রকাশ’ ও বাকি চারটি অংশ তাঁরই ‘সরস্বতী কণ্ঠভরণ’এ পাওয়া যায়। সেই খণ্ডিত অংশ সমুদয় একত্র করলে যে গল্পাংশ পাওয়া যায়, তা তৎকালীন রাজনৈতিক ইতিহাসে এক চরম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর তাতেই যত আকর্ষণ, তাতেই যত বিতর্ক। এ প্রসঙ্গে অনুসন্ধিৎসু পাঠকের কাছে ‘সংবিদ’ প্রকাশনীর ‘দেবী-চন্দ্রগুপ্ত কথা’ পড়ে দেখার অনুরোধ রইল।
খুব সংক্ষেপে বলতে গেলে, সমুদ্রগুপ্ত’র অব্যবহিত পর, ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত’র সিংহাসন আরোহণের আগে, খুব অল্প সময়ের জন্য রামগুপ্ত নামে আর একজন গুপ্তসাম্রাজ্যের প্রতিভূ হিসাবে সিংহাসনে উপবেশন করেছিলেন। যিনি ছিলেন সমুদ্রগুপ্ত’র ঔরসে এক দাসীর গর্ভজাত সন্তান। তিনি পশ্চিমী শক রাজা তৃতীয় রুদ্রসিংহ দ্বারা আক্রান্ত হয়ে সন্ধিশর্ত অনুযায়ী নিজের স্ত্রী ধ্রুবদেবী’কে তার হাতে তুলে দিতে সম্মত হন। বিষয়টি চন্দ্রগুপ্ত জানার পর, তিনি নিজে প্রথমে ধ্রুবদেবীর ছদ্মবেশে রুদ্রসিংহ’র শিবিরে গিয়ে তাকে হত্যা করেন, ও পরে ফিরে এসে অগ্রজ রামগুপ্তকেও হত্যা করে সিংহাসনের অধিকার গ্রহণ করেন। এটুকুই ঘটনা। কিন্তু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিচার করলে, এই সামান্য ঘটনা অসামান্য গুরুত্ব বহন করে। সেদিনও করেছিল। আজও করে।