চৈতন্য”—- বাঙ্গালীর সব “শ্রী”-এর উৎসমুখ। প্রায় পাঁচশো বছর আগের সেই আলোকবর্তিকা আজও প্রেম ও জ্ঞাণের জ্যোতিচিহ্ন। মিথ আর অলৌকিকতার কুয়াশাচাদর সরিয়ে প্রেমমানবের কাছে পৌঁছনোর পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। কিন্তু একুশ শতকের ভারতেও যখন দলিতদলন নিত্য শিরোনাম, জাতপাত-ধর্মাধর্মের রাজনীতিই ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক তখন তাঁর কাছে আরো একবার মাথা নুইয়ে বসা যাক। আরো একবার রহস্যের আড়মোড়া ভেঙ্গে সত্যের গভীরে ডুব দেওয়া যাক। আরো একবার কীর্তনের আসর বসুক আমাদের মনন আঙ্গিনায়। বাউল-সুফিয়ানা-পালাকীর্তনের সুর হিল্লোল তুলুক দরদী শ্রোতার বুকে। আর সেইসব অবসরে ভাববাদের খোসা ছাড়িয়ে যদি প্রবেশ করা যায় তৎকালীন রাজনীতি-ষড়যন্ত্র আর ঘটনার গভীরে তাহলে সমকালীন সত্যও দাঁড়িয়ে থাকে চৌকাঠ’পরে। তাকে চিনে নিতে যেমন অসুবিধা হয় না তেমনি বহু আকাঙ্খিত সাম্যের দিকচিহ্নও উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। এই নাটক এক চিরন্তন “খোঁজ”-এর নাটক। নিজের মধ্যের যে আমি চেতনায় প্রকাশিত, তার খোঁজ।
নামে কী আসে যায়?তাইতো দেশ কাল পাত্র ভেদে ডেনমার্ক উঠে আসে একুশ শতকের উত্তর কলকাতায় আর হ্যামলেট হয়ে ওঠে ব্রাত্য বসুর কলমে হেমলাট। একি শুধুই বঙ্গীকরন,স্হানিকতা, অনুবাদ না ছায়ানুসরণ-এ বল জজের কোর্টের জন্য তোলা থাক।কিন্তু যে মীমাংসা আমাদের কাছে অমীমাংসিত থেকে যায় তাহলো- “টু বি অর নট টু বি-দ্যাট ইজ দা কোশ্চেন?” রয়্যাল ড্যানিস ফ্যামিলির সম্পত্তির কাজিয়া থেকে উত্তর কলকাতার চারিত্রিক স্খলন- এসব কে ঘিরে রয়েছে এক কবন্ধ অন্ধ সময়। যার শরীরে-দাদ,খোস,নালী ঘা,গুপ্ত যৌন রোগ।নিরাময়ের বিশল্যকরণী যার হাতে থাকার কথা ছিল সে ও বয়ে নিয়ে চলছে বন্ধ্যা সময়ের সংক্রমন। দ্বিধা- অনিশ্চয়তা-হতাশা। তবুও একটা ভাঙা তলোয়ার হাতে প্রতিদিন প্রতিপক্ষকে বিনাশ করা তার স্বপ্নদোষ।
এবং ইন্দ্রজিৎ, ১৯৬৩ সালে বাদল সরকার এই নাটকটি রচনা করেছিলেন । এটি আধুনিক ভারতীয় থিয়েটারের একটি মাইলস্টোন নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
এবং ইন্দ্রজিৎ নাটকে আধুনিক বাঙালি মধ্যবিত্ত যুবকদের জীবনের আশা-আকাঙ্খা, সংকট, ব্যর্থতা, একঘেয়েমি তুলে ধরা হয়েছে ।
নাটকের চরিত্র অমল, বিমল, কমল, এবং ইন্দ্রজিৎ । যাদের বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা, কর্মস্থান সবটাই কলকাতায় । আসলে নাটককার এই অমল, বিমল, কমল এবং ইন্দ্রজিৎ- এদের দিয়েই সমাজের শিক্ষিত সাধারণ মধ্যবিত্ত যুবকদের তুলে এনেছে ।
এরা ছুটছে, ঘুরছে, এরা ছুটছে, এরা ঘুরছে । সময়ের সাথে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম । স্কুল, ক্লাসরুম, কলেজ, আড্ডা, প্রেম, বাড়ি, চাকরি, অফিস, বিয়ে, সংসার । ঘুরছে আর ঘুরছে । একটা আবর্তের মধ্যে ঘুরে চলেছে ।
Sesh Basanta is a psychological stage adaptation based on Samaresh Basu’s short story Shastho Ritu.
The play centres on Krishnobhamini, a devotional singer of kirtan, whose life is outwardly defined by spiritual discipline, music, and social reverence. Celebrated by the community for her piety, she appears serene and fulfilled; yet beneath this sacred exterior lies profound loneliness and suppressed human desire.
Kirtan becomes both her refuge and her inner voice—at times offering solace, at times confronting her with unanswered questions. Torn between devotion and human longing, Krishnobhamini enters an unfamiliar emotional state that does not belong to any natural season—this is the “sixth season.” The Last Spring symbolizes her final awakening, where she dares to confront her truth.
The play is a poetic exploration of a woman’s inner conflict, social hypocrisy, and the fragile boundary between sanctity and humanity.
সাল ১৯৫০। ১৯৪৬ এর কুখ্যাত ক্যালকাটা কিলিং এর জ্বলন্ত স্মৃতির সাথে সদ্য ঘটে যাওয়া দেশভাগের ক্ষত তখনও দগদগে। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টায় দুই বঙ্গের মানুষ। তবু তারই মধ্যে দুই বাংলার মাটিতেই আছড়ে এসে পড়ল আবার একটা দাঙ্গা। পূর্ব বাংলা থেকে আসা সঙ্গীত প্রিয় নিরীহ মুসলমান ছেলে মহসিন গান শুনতে এসে আক্রান্ত হল এ পার বাংলায়। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে আশ্রয় নেওয়া আর এক সঙ্গীতপ্রেমী হিন্দু যুবক সাগরের ঘর থেকেই ধরা পড়ল সে দাঙ্গাবাজদের হাতে। তারপর ৪ বছর কেটে গেছে। ওপার বাংলায় হতভাগ্য মহসিনের আব্বা, আম্মা আর বোন এখনো প্রতীক্ষায়। এদিকে বিবেকের তাড়নায় দগ্ধ সাগর তার ভাই শঙ্করকে নিয়ে পৌঁছায় এই হতভাগ্য পরিবারের দরজায় নিজের পাপ স্খলন করতে, প্রায়শ্চিত্তের উদ্দেশ্যে, ক্ষমা প্রার্থী হয়ে। শুরু হয় ভাগ্যের অদ্ভুত পরিহাস। হত্যাকারী নয় বরং ত্রাণকর্তা হিসেবেই সাগরকে বুকে টেনে নেয় আব্বা, আম্মা আর বোন কারণ কাকতালীয় ভাবে ৪৬ এর দাঙ্গাতেও একই ভাবে মৃত্যুমুখে পড়েছিল মহসিন ওই কলকাতাতেই এবং সেবার যে হিন্দু যুবকের সাহায্যে সে প্রাণ নিয়ে ফিরতে পেরেছিল তার নামও ছিল সাগর।
এরপর একাধারে শুরু হয় সাগরের বিবেক দংশন আর অপর দিকে মহসিনের পরিবারের তরফ থেকে স্নেহের বর্ষণ। অবশেষে সকল বিভ্রান্তি কাটিয়ে সাগর তার পাপ স্বীকার করে মহসিনের বোন জবার কাছে এবং সাগরকে হতবাক করে জবা ক্ষমা করে দেয় শুধুমাত্র ভালবাসার জোরে বা বলা ভালো জীবিতদের প্রতি ভালবাসার জোরে। সেই আলোতে সাগর দেখতে পায় হিংসা ও ধর্মান্ধতার উর্ধ্বে জেগে থাকা সুবিশাল অখণ্ড এক জাতিকে যারা বেঁধে আছে একটাই সাধারণ সূত্রে-তারা বাঙালী, তাদের মাতৃভাষা বাংলা। মধ্যে বয়ে যাওয়া পদ্মা বা সীমান্তে নতুন গজিয়ে ওঠা কোন কাঁটাতারের সাধ্য নেই যা ছিন্ন করবার।
পরিশেষে সকল সঙ্কীর্ণতা কাটিয়ে হিন্দু বাঙালী যুবক সাগর, বাংলাদেশী মুসলিম যুবতী গুলশান বানু ওরফে জবার হাত ধরে ঝাঁপ দেয় এক বাংলার দাবিতে। পেছনে পড়ে থাকে কিছু মানুষ যারা আগে হিন্দু,আগে মুসলিম তারপর বাঙালী। যারা পাশাপাশি বাস করতে হয়তো তৈরি কিন্তু এক হতে আজও তৈরি নন।
Gangchil is an adaptation of Anton Chekov’s ‘The Seagull’.
The play centres around Krishnendu Chowdhury, a young, aspiring playwright who is desperate for new artistic forms and the approval of his famous actress mother, Anushuya Chowdhury. Anushuya arrives at the estate with her lover, the successful writer Bihan Chatterjee, whom Krishnendu both admires and resents.
Krishnendu stages a symbolist play starring Niha, a young neighbour he is in love with. His play is ridiculed, especially by his mother, and Niha becomes infatuated with Bihan instead. She leaves Krishnendu and later suffers personal and professional disappointment, as Bihan abandons her and her acting career falters.
Over time, Krishnendu becomes increasingly isolated and discouraged. In the final act, he commits suicide, unnoticed at first by the others who are engrossed in games and conversation.
গৌরহরি কুন্ডু একজন পেছনের সারির পার্টি হোলটাইমার | বয়স হয়েছে তাঁর | এলাকার লোকেদের কাছে তিনি কুন্ডুবাবু বলে পরিচিত |
একটা প্রায় ভেঙে পড়া ভুতুড়ে বাড়িতে তিনি ঘাঁটি আগলে বসে আছেন – একদা এটা তাঁর পার্টির লোকাল অফিস ছিল | এখন সে অফিসে প্রায় কেউই আসেন না |
এই জমিদার বাড়িটা পার্টিকে দিয়ে গেছেন বর্গা আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা কমরেড ধরণীধর সর | আজও তাঁর প্রেতাত্মা এ বাড়িতে ঘুরে বেড়ান আর ফিসফিস করে বলেন -‘ অপারেশনে যাবি না গৌর? ’
খুব স্বাভাবিক কারনে কায়েমী স্বার্থের মানুষজনের নজর এই বিশাল বাড়ি আর তৎ সংলগ্ন জমিটার ওপর | একা কুম্ভর মতো এর বিরুদ্ধে চলে কুন্ডুবাবুর একক লড়াই আর সেই সূত্রে বেরিয়ে আসে বর্তমান সামাজিক আর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও কুন্ডুবাবুর ব্যক্তিগত জীবনের অজানা কাহিনী |
কুন্ডুবাবু সেই হাজার হাজার অনাদৃত পার্টি কর্মীদের গল্প যাঁরা বিশ্বাস ও আদর্শের জন্যে জীবনের সবটুকু দিয়েছেন – যাঁরা স্বপ্ন ছেড়ে গেলেও স্বপ্নকে ছাড়তে চান না |
Kundubabu is a lonely man‘s fight against the changing time. An old party wholetimer in a village in Bengal stands guard to a decrepit old building that once was his local party office.
The building is now in ruins and vested interests want to evict him to build a community centre cum supermart in that place.
Armed with nothing but an iron faith that dares a compromising and self seeking society,Kundubabu is the last man standing.
Kundubabu is the story of thousands of grassroot workers who gave their all for an ideology. … And who dared to dream even if the dream has left behind.